পরদিন বেশ বেলা করে কলেজে আসে মনিকা। ফেলে যাওয়া নীলচে প্যান্টিটা একটা শপিং ব্যাগে করে তাকে দিয়ে আসে মতি। তার প্রতি ম্যাডামকে রাগী বা ক্ষুদ্ধ মনে হয়না মতিনের। হয়তো ভালই লেগেছিল গতদিনের রসাত্মক খেলা, কে জানে।
এদিকে মাস দুয়েকের মধ্যেই চাকরী পার্মানেন্ট হয়ে যায় মনিকার। ডিপার্টমেন্ট হেড হিসেবে তার নামের গেজেট প্রকাশিত হয়ে গেল পাঁচ মাস পর। ফিজিক্সে উচ্চ ডিগ্রীধারী সুশিক্ষিতা তরুণীর জন্যে এমন পদোন্নতি মোটেই অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিতে পারলনা কেউ। তবে মন ভেঙে গেল প্রাক্তন হেড আনজুম আপার। পুরো ব্যাপারটায় সিনিয়রিটিকে যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে তা তিনি মোটেই হজম করতে পারলেন না। শুধু শুধু হম্বিতম্বি না করে মাথা ঠান্ডা রাখলেন তিনি। হেডমাস্টারের সাথে বৈঠক করতে চান বলে আর্দালী মারফত আফসার সাহেবের কাছে খবর পাঠালেন।
এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে বলে আগেই কথা দিয়েছে মতিন, সদা হাস্যোজ্জ্বল মতির কাছে অবশ্যই কোন সমাধান আছে......
আফসার সাহেবের রুমের দরজা বন্ধ। হেডমাস্টারের সামনের চেয়ারে বসে উদ্ভট ভঙ্গিতে পিরিচে ঢেলে ঢেলে চুমুক দিয়ে চা খাচ্ছে মতিন। চকাস চকাস শব্দে আফসার সাহেবের মনে বিরক্তি উৎপাদন করে চা খাচ্ছে আর ভ্রু কুঁচকে আনজুম ম্যাডামের ব্যাপারটা কিভাবে দেখা যায় তাই ভাবছে সে। সামান্য কেরানী তার সঙ্গে বসে চেটে চেটে চা খাচ্ছে জমিদারী ভঙ্গিতে, ব্যাপারটা অপমানজনক মনে হয় আফসার সাহেবের কাছে। অথচ এই মূহুর্তে দুটাকার কেরানীর উপরেই তার মান-সম্মান অনেকটা নির্ভর করছে। বিরক্তির বদলে মতিনের ধূর্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ভয়টাই বেশি হল আফসার সাহেবের। গত কয়েকমাসে মতিন কলেজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে। খোদ হেডমাস্টার ছাড়া যা কেউই জানেনা। মাঝে মাঝে সত্যি ভয় হয় তার, মতিন কি তবে তার সব গ্রাস করে নেবে একদিন? পরমূহুর্তেই মনে মনে হেসে ফেলেন তিনি। এইট পাশের সার্টিফিকেট নিয়ে যত ফুটানিই দেখাক, সে না কোনদিন টিচার হতে পারবে, না পারবে কমিটির সদস্য হতে। বরঞ্চ মতিন এই কয়েকমাসে সঠিক সময়ে সঠিক উপদেশ দিয়ে উপকারই করেছে তার। বদলে মতিনের সুবিধাদি বাড়িয়ে দিয়েছেন আফসার সাহেব। কলেজটা আরো দু ক্লাস বেড়ে কলেজ হতে যাচ্ছে। বাড়তি বরাদ্দের টাকায় টিচার্স রুমের জন্যে কেনা এসির একটা মতিনের হিসাব করার রুমে লাগানো হয়েছে। হেড একাউন্ট্যান্ট হবার সুবাদে নিজের একটা রুমও পেয়েছে সে, বেড়েছে বেতন-বোনাস। এসব নিয়ে অবশ্য চিন্তা নেই আফসার সাহেবের। তার চিন্তা মতিনের স্বভাবজাত নারীলুলোপতা নিয়ে। ছুটির সময় মেয়েদের বের হবার গেটের স্থান পরিবর্তন করে নিজের রুমের পাশে করে নিয়েছে মতিন। এসির ঠান্ডা বাতাস খেতে খেতে চোখ জুড়িয়ে নারীসুধা পান করে সে।
আনজুম আপার ব্যাপারটা নিয়ে কিছুই ঠিক করতে পারেননি আফসার সাহেব। সিনিয়র একজন শিক্ষিকাকে এভাবে নামিয়ে দিয়ে একেবারে জুনিয়র কে হেড করে দেয়াটা বেশ ঘোলাটে। আনজুম আপা ব্যাপারটা নিয়ে জল ঘোলা করলে বেকায়দায় পড়তে পারেন তিনি।
ঠক করে খালি চায়ের কাপ টেবিলের উপর রাখল মতিন। আফসার সাহেব হাত কচলাতে কচলাতে বললেন,
- কি ভাবলা মতি, আপা যদি আমার শ্বশুরের কাছে যায় তাহইলে কিন্তু ঝামেলা হবে। এইরকম বড় একটা কাজ হইছে, আমজাদ মিয়া কিন্ত কিছুই জানেনা।
- তা তো হইবই সার, আমার লিংক ভাল আছে কিন্ত আমজাদ সারকে না জানায়ে কাজটা করা হইছে। উনি নিশ্চই সন্দেহ করবেন।
- তো কি করবা? আপা তো এত সহজে হাল ছাড়বে না।
- প্রথম কথা ব্যাপারটা নিয়া যেন উনি কোন হম্বিতিম্বি না করতে পারেন তা শিউর করা। তারপর একটা ভাল টোপ ফেলানো। টোপ গিললে আমরা মজা লুটুম।
- কি কও মতি, মাথা ঠিক আছে? মজা লুটুম মানে কি?
চেয়ার থেকে ছিটকে উঠার উপক্রম হল আফসার সাহেবের।
শান্তভাবে বসে ব্যাপারটা বিশ্লেষণ করল মতিন,
- দেখেন সার, আমি ব্যাপারটা বুঝায়ে দিব, আপনে শুধু কায়দা করে আপার মনে লোভ ঢুকায়ে দিবেন।
- ক্যামনে?
- খেয়াল কইরা দেখেন, আনজুম আপার এই বছরে এবসেন্ট খুব বেশি। উনার তো টাকার প্যারা নাই, তাই ইচ্ছামত কলেজ মিস দেয়। বড়লোকের বউরে কেউ কিছু বলারো সাহস পায়না। উনার বেতনের চেয়ে যে ড্রাইভার উনারে নিয়া আসে আর যায় তার বেতনই বেশি দেয়া লাগে। মানে চাকরীটা তার কাছে খালি মানসিক শান্তির ব্যাপার। উনারে বুঝায়ে বলবেন যে, উনার লাগামছাড়া এবসেন্ট দেইখা নতুন কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিছে।
0 Comments